সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা, টাঙ্গুয়া কি ফিরবে নিজের রূপে?

  • আপলোড সময় : ২৯-০৫-২০২৫ ০৮:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৫-২০২৫ ০৮:০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা, টাঙ্গুয়া কি ফিরবে নিজের রূপে?
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর - বাংলাদেশের একটি অনন্য জীববৈচির্ত্যভিত্তিক জলাভূমি। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা এই হাওরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাকৃতিক স¤পদে ভরপুর এ অঞ্চলকে ঘিরে গত দুই দশকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও হাওরের বাস্তব চিত্র এখনো হতাশাজনক। প্রাণহীন হয়ে পড়েছে এক সময়ের প্রাণবন্ত জলাভূমি, হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য, আর স্থানীয়রা বারবার হয়েছেন অবহেলিত। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ঢাকায় ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্প উদ্বোধন হয়েছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা বাজেটের এ প্রকল্পে পরিবেশ রক্ষা, টেকসই জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- আসলেই কি এ প্রকল্প পুরোনো ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তবায়িত হবে? স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগ অমূলক নয়। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অনেক প্রকল্পেই স্থানীয় জনগণকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তথাকথিত সংরক্ষণের নামে স্থানীয়দের জীবিকায় আঘাত করা হয়েছে, যাদের জন্য প্রকল্প, তারাই পরিণত হয়েছেন পর্যবেক্ষকের ভূমিকায়। ফলে প্রকল্পে বরাদ্দ আসলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। নতুন প্রকল্পেও ‘কমিউনিটি-ভিত্তিক’ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ের অংশগ্রহণ এখনো স্পষ্ট নয়। প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৩-৪ হাজার মানুষকে সুবিধাভোগী করা হবে বলা হলেও টাঙ্গুয়ার হাওরের ৪১টি গ্রামের বাস্তবতা সেখানে অনুপস্থিত। এমন সীমিত উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। এখানে প্রয়োজন বাস্তবতা ভিত্তিক সুসংগঠিত পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। হাওরের প্রকৃতি রক্ষায় স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে, নিয়ন্ত্রিত জনবসতি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। প্রকল্প যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের খাতায় পরিণত না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। এই প্রকল্প সত্যিকার অর্থে যদি হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়, তবে প্রয়োজন হবে মনিটরিং ব্যবস্থার শক্তিশালী কাঠামো, দায়বদ্ধতা, আর কার্যকর মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা। আশা করাই যায়, এবার যেন ফিরে না আসে সেই পুরনো গল্প- প্রকল্প আছে, টাকা গেছে, হাওর থেকেও গেছে প্রাণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স